বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (Artificial General Intelligence – AGI) প্রযুক্তির বাজারে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ব এজিআই বাজারের আকার ছিল ২০০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালে এটি ২৫৭.২ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়ে ২০৩৩ সাল নাগাদ ১.৫৫ বিলিয়ন (১৫৫ কোটি) মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩৩ মেয়াদে এই খাতের বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির হার (CAGR) হবে ২৯.৩%।
প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
ওপেনএআই (OpenAI) ও মাইক্রোসফটের স্বায়ত্তশাসিত এজেন্ট উন্মোচন, ডিপসিকের (DeepSeek) ওপেন-ওয়েটস আর্কিটেকচার, এক্সএআই-এর (xAI) কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রসার এবং মেটার (Meta) মাল্টিমোডাল গবেষণার মতো যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলো এজিআই বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
টেক্সট, অডিও, ইমেজ এবং ভিডিও প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম উন্নত ‘মাল্টিমোডাল এআই’ সিস্টেমের দ্রুত বিকাশ এবং জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাই বাণিজ্যিক খাতে এর ব্যবহার বাড়িয়ে তুলছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, ম্যানুফ্যাকচারিং, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন (BFSI), সরকারি খাত, মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো তথ্য-নির্ভর খাতগুলোতে রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত এজেন্টের প্রয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজার বিভাজন ও আঞ্চলিক অবস্থান
১৫০ পৃষ্ঠার এই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এজিআই বাজারকে কয়েকটি মূল ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:
- ডিপ্লয়মেন্ট (ডেলিভারি মাধ্যম): ক্লাউড-ভিত্তিক এবং অন-প্রেমিসেস সিস্টেম। উচ্চ সক্ষমতার কম্পিউটিং ও নমনীয়তার কারণে ক্লাউড ডিপ্লয়মেন্ট এগিয়ে থাকলেও ডাটা সিকিউরিটি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অন-প্রেমিসেস ব্যবস্থার চাহিদাও বেশ শক্তিশালী।
- টাইপ বা প্রকারভেদ: ফাউন্ডেশন মডেল-ভিত্তিক এজিআই, স্বায়ত্তশাসিত এজেন্ট-ভিত্তিক এজিআই, মাল্টিমোডাল এজিআই সিস্টেম এবং হাইব্রিড কগনিটিভ এজিআই।
- ব্যবহারকারী খাত (End-User): স্বাস্থ্যসেবা, বিএফএসআই (BFSI), আইটি ও টেলিকম, ম্যানুফ্যাকচারিং, সরকার, অ্যারোস্পেস ও ডিফেন্স ইত্যাদি।
- আঞ্চলিক অবস্থান: ২০২৫ সালে বিশ্ব এজিআই বাজারের সর্বোচ্চ ৩০.৭% রাজস্ব শেয়ার দখল করে শীর্ষে ছিল উত্তর আমেরিকা। এআই গবেষণা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সেমিকন্ডাক্টর অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের কারণে এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের ভূমিকা
নভিডিয়া (NVIDIA), গুগল (Google), ওপেনএআই, মেটা ও এক্সএআই-এর মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি হাইপারস্কেল ক্লাউড প্রোভাইডার ও সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বাড়ছে। বিশ্বমানের ডাটা সেন্টার, হাই-পারফর্মেন্স কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এজিআই মডেলগুলোর ট্রেনিং ও প্রসেসিং গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহৎ এআই কো-পাইলট ও ইন্টেলিজেন্ট এজেন্টগুলোর বাণিজ্যিকীকরণের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববাজারকে দ্রুত প্রসারিত করতে সহায়তা করবে।
Leave a Reply