A National Initiative — Empowering Bangladesh's Global Workforce
Technology

এআই তাদের ক্যারিয়ার গড়বে না ভাঙবে, এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত টেক ফ্রিল্যান্সাররা

দ্য অ্যাকাউন্টেন্সি পার্টনারশিপ-এর নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৩.১ শতাংশ টেক ফ্রিল্যান্সার প্রত্যাশা করেন এআই তাদের শিল্পকে এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে, ৩৬.৩ শতাংশের আশঙ্কা এটি তাদের জায়গা দখল করে নেবে। ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল পেশাজীবীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাবের এই আশঙ্কা আরও প্রবল।

দ্য অ্যাকাউন্টেন্সি পার্টনারশিপের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি শিল্পে সাহায্য করবে নাকি ক্ষতি করবে—এ প্রশ্নে বিভক্ত টেক ফ্রিল্যান্সাররা। জরিপে অংশ নেওয়া ১০৬০ জন ফ্রিল্যান্সার ও স্বনিয়োজিত পেশাজীবীর মধ্যে ৪৩.১ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাবের আশা করছেন এবং ৩৬.৩ শতাংশ নেতিবাচক পরিণতির আশঙ্কা করছেন।

জরিপটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল, যখন এআই কোডিং টুল, এজেন্টিক ডেভেলপার এবং অটোমেশন প্ল্যাটফর্মগুলো স্বাধীন প্রযুক্তিবিদদের চিরাচরিত কাজের জায়গাগুলো গভীরভাবে দখল করতে শুরু করেছে। এর ফলে এডটেক (EdTech) এবং কর্মশক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানকারীরা কীভাবে এআই দক্ষতা শেখাবে, তার ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

এই তথ্য-উপাত্ত থেকে এমন এক বিভক্ত কর্মীবাহিনীর চিত্র ফুটে ওঠে, যারা দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহার করলেও দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের কাজের চাহিদার ক্ষেত্রে এসব টুলের প্রভাব নিয়ে সন্দিহান। টেক ফ্রিল্যান্সারদের চেয়ে ক্রিয়েটিভ পেশাজীবীরা এ বিষয়ে বেশি হতাশাবাদী; তাদের ৪৩.৩ শতাংশ মনে করেন এআই তাদের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর প্রতি পাঁচজনে মাত্র একজন ইতিবাচক প্রভাবের আশা করছেন।

এআই ব্যবহার করছেন ফ্রিল্যান্সাররা, তবে উদ্বেগ কাটছে না

দ্য অ্যাকাউন্টেন্সি পার্টনারশিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি মার্ফি বলেন, এই জরিপের ফলাফল প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সাথে তাদের তৈরি করা হাতিয়ারের জটিল সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি শিল্প সবসময়ই নতুন প্রযুক্তির সাথে সাথে বিবর্তিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো সেই রূপান্তরের সর্বশেষ সংযোজন, যা ডেভেলপার এবং আইটি পেশাজীবীদের কাজের ধরনকে নতুন রূপ দিচ্ছে।”

মার্ফির মতে, অনেক ফ্রিল্যান্সারই ইতোমধ্যে তাদের কাজের ধারায় এআই যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কোডিং কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করতে, ডকুমেন্টেশন তৈরি করতে এবং ডিবাগিংয়ে সাহায্য করতে পারে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি জটিল বা কৌশলগত কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় বের করে দেয়।”

তবে পরিবর্তনের এই দ্রুতগতি বেশ উদ্বেগজনক। তিনি আরও যোগ করেন, “যখন নতুন প্রযুক্তি এত দ্রুত আবির্ভূত হয়, তখন পেশাজীবীদের নিজেদের ভূমিকার বিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই স্বাভাবিক। কিছু ফ্রিল্যান্সার হয়তো আশঙ্কা করছেন যে অটোমেশনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু কাজের চাহিদা কমে যেতে পারে।”

মানুষের বদলে এআই বেছে নিচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো—এটি এখন বড় হুমকি

জরিপে অংশ নেওয়া সকল খাতের স্বনিয়োজিত পেশাজীবীদের মধ্যে ১৩.৯ শতাংশ মনে করেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানুষের বদলে এআই ব্যবহারের প্রবণতাই তাদের শিল্পের জন্য একক বৃহত্তম হুমকি। এর ফলে অটোমেশন সরাসরি ক্লায়েন্ট চাহিদার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা পুরো খাতের জন্যই একটি বড় ঝুঁকি। এছাড়া ২৮.৭ শতাংশ ক্রিয়েটিভ পেশাজীবী বিশ্বাস করেন, এআই তাদের খাত ও চাকরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই ফলাফল এআই এবং ‘হোয়াইট-কলার’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্ককে উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অটোমেশনের কারণে ইতোমধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফিন্যান্স এবং মার্কেটিং খাতে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি নেতাদের দাবি, এআই পুরোপুরি চাকরি কেড়ে নেওয়ার বদলে মানুষের কাজের ধরনেই বেশি পরিবর্তন আনবে।

ফ্রিল্যান্সারদের টিকে থাকার প্রধান নিয়ামক এখন এআই দক্ষতা

মার্ফি বলেন, যে ফ্রিল্যান্সাররা এআই-কে উপেক্ষা করার মতো হুমকি না ভেবে বরং শেখার মতো একটি দক্ষতা হিসেবে গ্রহণ করবেন, তারাই সামনের দিনে এগিয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, “যারা তাদের কাজের ধারায় নতুন প্রযুক্তিগুলো যুক্ত করতে শিখবেন, তারা প্রতিযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। অনেক ক্ষেত্রেই, যারা উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝেন, তারাই নির্ধারণ করেন এই প্রযুক্তিগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ডেভেলপাররা সবসময়ই বিবর্তিত হওয়া হাতিয়ারগুলোর সাথেই কাজ করেছেন, হোক তা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের উত্থান, অটোমেশন ফ্রেমওয়ার্ক বা লো-কোড প্ল্যাটফর্ম। দক্ষ পেশাজীবীদের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ না করে, কাজের ধরন বদলে দেওয়ার আরেকটি হাতিয়ার হিসেবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটার সম্ভাবনা বেশি।”

বিশ্ববিদ্যালয়, বুটক্যাম্প এবং কর্পোরেট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে যে পথে এগোচ্ছে, জরিপের এই তথ্যের সাথে তার বেশ মিল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূলধারার প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে এআই সাক্ষরতা, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেশিন লার্নিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, নিয়োগকর্তাদের অর্থায়নে পরিচালিত লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (L&D) বাজেটের বাইরে থাকা ফ্রিল্যান্সারদের কাছে এই সুবিধাগুলো আদৌ পৌঁছাবে কি না, অথবা এআই দক্ষতার এই শূন্যস্থানই ভবিষ্যতেও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল নির্ধারক হয়ে দাঁড়াবে কি না।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep reading

Related articles

Technology June 3, 2026 1 min read

ফ্রিল্যান্সার ও ক্রিয়েটরদের করমুক্ত সুবিধায় প্রধানমন্ত্রীর অভয়

দেশের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির মূল শক্তি—ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত সাড়ে সাত শতাংশ (৭.৫%) ভ্যাট বা কর আরোপের…

Technology July 25, 2026 1 min read

নতুন দিগন্ত: ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা বাড়াতে যাত্রা শুরু করল ‘দ্য ফ্লুয়েন্ট ফ্রিল্যান্সার’

বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক মুক্ত পেশা বা ফ্রিল্যান্সিং বাজারে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন একটি…

Technology August 13, 2026 1 min read

(AI) এআই কাড়েনি চাকরি, বদলে দিচ্ছে কাজের ধরণ

এআই-ভিত্তিক চাকরি বিলুপ্তির আশঙ্কা এখনো অমূলক; রূপান্তর চলছে কাজের গতি ও ধরণে, নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত অর্থনীতিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত…